ভারতীয় উপমহাদেশে নরবলীর ইতিহাস

ভারতীয় উপমহাদেশে নরবলীর ইতিহাস জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে টোটেম সম্পর্কে। এখন প্রথম প্রশ্ন হলো টোটেম কি? আসুন জেনে নেওয়া যাক টোটেম সম্পর্কেঃ

সনাতন ধর্মাবলম্বী যারা মাটি, পাথর ইত্যাদি দ্বারা নির্মিত দেব-দেবীদের পুজা করতেন তারা ভাবতেন উক্ত দেব-দেবী তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী। এটাই হলো টেটেমবাদ।

এখন প্রশ্ন হলো ভারতবর্ষে বা পৃথিবীতে নরবলী শুরু হলো কিভাবে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো লোভ বা ভয় ৷ প্রাচীনকাল ও বর্তমানেও মানুষ দেবতাদের ভয় পেতো, বজ্রপাত হলে তাদের দেবতা ইন্দ্রকে ভয় পেতো, বরুনকে ভয় পেতো বৃষ্টিপাত বেশি হলে ৷ তাই এদের তুষ্ট করতে দেবতা জ্ঞানে পুজা করতো। এখন অনেকেই বলবেন এইসব থেকেই কি এসেছে নরবলী? উত্তর হলো কখনোই না। এসেছে অনেক পরে, ধাপে ধাপে, সে সময় ভোগ করার মত এক মাত্র বস্তু ছিল নারী, আর তা তারা রিক্রিয়েশন এর একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ভাবতো। সে যুগে আজকের মত সভ্য সমাজ তখনো তেমন ভাবে গড়ে উঠেনি ৷ তাই যখন মানুষের মনে এলো দেবতাকে নৈবেদ্য দান করবে তখন নারীদেরই প্রথম বেছে নেয়া হতো এবং তারা তাই করতো ৷

অনেকে ভাববেন নারীবলী? না৷ সে যুগে মানুষ নারীদের মেন্সট্রুয়েশানের বা পিরিয়ড কি তা জানতো না। তাই পিরিয়ডকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ভাবত৷ তাই প্রথম দেবতাকে তারা মাসিকের রক্ত নৈবেদ্য হিসেবে দান করতো ৷ কিছু বছর পর যখন দেখলো তাদের অভিষ্ট সিদ্ধ হচ্ছে না, প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে তখন তারা ভাবলো এবার অন্য কিছু নৈবেদ্য দিতে হবে৷ তখন তারা কুমারী মেয়ের সাথে মিলন হবার পর যে রক্তপাত হয় সেই রক্তকে নৌবেদ্য হিসেবে দান করে৷

পক্ষিণঃ কচ্ছপা গ্রাহা মতস্যা নববিধা মৃগঃ। মহিষোবোধিকা গাবশছাগোবভ্রশ্চ শূকরঃ খড়গশ্চ কৃষ্ণসারশ্চ গোধিকা সরভো হরি। শার্দুলশ্চ নরশ্চৈব স্বর্গাত্ররুধিরতথাঃ চণ্ডিকা ভৈরবাদীনাং বলয়ঃ পরিকীর্তিতঃ। বলিভিঃ সাধ্যতে মুক্তির্বলিভিঃ সাধ্যতে দিবস

“কালিকা পুরানম” নামক উপপূরান যার রচনাকাল খ্রিষ্টের জন্মের ৬০০-৩০০ বছর আগে, তাতেই জীবহত্যার এই নির্দেশবলী আছে।

এই শ্লোকের অর্থঃ পক্ষী, কচ্ছপ, কুষ্ঠীর, নয় প্রকার মৎস্য, মৃগ, মহিষ, গোধিকা, গো, ছাগ, নকুল, শূকর, গণ্ডার, কৃষ্ণসার, সরল, সিংহ, ব্যাঘ্র, মনুষ্য স্বীয় শরীরের রক্ত এই সমুদয় বস্তু চণ্ডিকা-ভৈরবাদির বলি। এই বলির দ্বারা মুক্তিসাধন হয় এবং বলির দ্বারা স্বর্ণসাধন হয়।

কালিকা পুরানে আরেকটি শ্লোক আছে যাতে বলা আছে যার অর্থঃ যথাবিধি একটি নরবলিদানে দেবী এক হাজার বছর এবং তিনটি নরবলিদানে দেবী এক লক্ষ বছর তৃপ্ত থাকেন। সুতরাং দেবীকে তৃপ্ত করার লোভ সে যুগের মানুষ ছাড়তে পারেনি। তাছাড়া মানুষ আরও অনেক লোভেই নরবলির আশ্রয় নিয়েছে।

শ্লোকটি হলঃ ‘নরেন বলি না দেবী তৃপ্তিং সহস্র বৎসরাণি। বিধিদত্তেন চাপ্নোতি ত্রিইন্ডিং লক্ষং ত্রিভির্নরে’

তখন যারা গ্রামে থাকতো, ফসল ভালো হবার জন্য বলি দিতে চাইলো তারা। জমি যেমন উর্বরশক্তি সম্পন্ন ঠিক তেমন নারীও উর্বর। ঠিক এই চিন্তাতেই নারীবলীর প্রচলন শুরু হয়। এরপর আস্তে আস্তে দেব-দেবীকে তুষ্ট করার জন্য মানুষ নরবলীর প্রচলন শুরু করে।

Leave a Reply